আসছে ঢাকায় ভোলার গ্যাস, সিএনজি আকারে এই গ্যাস তিতাসের আওতাধীন শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা হবে। এই গ্যাস সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছে বেসরকারি কোম্পানি ইন্ট্রাকো। তবে এই গ্যাস আসতে সময় লাগবে চুক্তি সইয়ের পর থেকে তিন মাস। প্রাথমিকভাবে ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আনা হবে।

আসছে ঢাকায় ভোলার গ্যাস
রবিবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইন্ট্রাকো ও সুন্দরবন গ্যাসের মধ্যে এই বিষয়ে ১০ বছরের চুক্তি সই হয়। চুক্তি সই করেন সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির পক্ষে কোম্পানি সচিব শাহ আলম মোল্লা এবং ইন্ট্রাকোর পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়াদ আলী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী বলেন, যেসব জায়গায় গ্যাসের সমস্যা বেশি সেখানে আমরা গ্যাস দেবো। শিল্পের যেখানে স্বল্পচাপ সেখানেই গ্যাস দেওয়ার চেষ্টা করবো। এই খানে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সব সময় চান দুর্গম এলাকার মানুষও জ্বালানি পাক। এই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ভোলায় আমাদের বিশাল সম্ভাবনার জায়গা তৈরি হচ্ছে। প্রায় ৩ টিসিএফ এর কাছাকাছি গ্যাস পাওয়া যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভোলা থেকে বরিশাল হয়েও পাইপলাইনে গ্যাস আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এছাড়া ইন্ট্রাকো তো সিএনজি করে আনবেই।
ভোলার গ্যাস এলাকাবাসীর দাবি থাকবেই তাদের কথা আমরা বিবেচনা করবো। ইন্ট্রাকো যত দ্রুত গ্যাস দিতে পারে সে আশা করছি আমরা। একটা বড় দিগন্ত উন্মোচিত হলো। তিতাস এখন বেশ গ্যাস সংকটে আছে। সবার সহযোগিতায় আজকের এই অর্জন।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান বলেন, জানুয়ারিতেই আমরা ঠিক করেছিলাম ভোলা থেকে পাইপলাইন ছাড়া গ্যাস আনবো। সে অনুযায়ী কাজ শুরু করি আমরা। ইলিশাকে ২ হাজার বিসিএফ গ্যাস প্রমাণিত গ্যাস পেয়েছি। এই এলাকায় আরও গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আমরা আশা করছি।
ভোলায় যে গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে তার থেকে ৬০-৭০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে যায়। ভোলায় আরও গ্যাস আছে বলে আমরা আশা করছি। যা জাতীয় গ্রিডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, ঢাকার প্রান্তের শিল্প মালিকরা গ্যাসের স্বল্পচাপে ভুগছেন। তাদের শিল্পে এই গ্যাস যদি আমরা দিতে পারি তাহলে এই স্বল্পচাপ কমে আসবে। ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রাথমিকভাবে এসব শিল্প কারখানায় শুরু করা হবে।
এই সিএনজির প্রতি ঘনমিটারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৭ টাকা ৬০ পয়সা। বর্তমানে সিএনজি ফিলিং স্টেশনে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম পড়ছে ৪৩ টাকা। অর্থাৎ ভোলার গ্যাস চলতি দামের চেয়েও বেশি মূল্যে বিক্রি হবে।
১০ মে ভোলার গ্যাস সিএনজি আকারে তিতাসের আওতাধীন শিল্পকারখানায় সরবরাহের বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করে জ্বালানি বিভাগ। এতে গ্যাসের দাম, বিভিন্ন সংস্থার মার্জিন, গ্যাস সরবরাহকারীর জন্য পালনীয় শর্তের বিষয় উল্লেখ করা হয়।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি কোম্পানি আগ্রহ প্রকাশ করলেও প্রথম পর্যায়ে ইন্ট্রাকোকে ভোলার গ্যাস সিএনজি আকারে সরবরাহের কাজ দেওয়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে দিনে ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সিএনজি আকারে আনা হবে। পরে তা ২০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করা হবে। ভালুকা-গাজীপুরের জ্বালানি সংকটে ভোগা কারখানাগুলো গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার, সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. আব্দুল খালেক মল্লিক, সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তোফায়েল আহমেদ ল, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রিয়াদ আলী।
১ thought on “আসছে ঢাকায় ভোলার গ্যাস”