ভোলা জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা, যা শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসে সমৃদ্ধ। এই জেলার পূর্ব নাম ছিল দক্ষিণ শাহবাজপুর। জে.সি. জ্যাক তার “বাকেরগঞ্জ গেজেটিয়ার”-এ উল্লেখ করেছেন যে দ্বীপটি ১২৩৫ সালে তৈরি হওয়া শুরু হয়েছিল এবং এই এলাকায় চাষাবাদ শুরু হয়েছিল ১৩০০ সালে। ১৫০০ সালে পর্তুগিজ এবং মগ জলদস্যুরা এই দ্বীপে তাদের ঘাঁটি স্থাপন করে। শাহবাজপুরের দক্ষিণাঞ্চলেও আরাকান ও মগ জলদস্যুরা তাদের ঘাঁটি স্থাপন করে।
শাহবাজপুর ১৮২২ সাল পর্যন্ত বাকেরগঞ্জ জেলার একটি অংশ ছিল। ১৯ শতকের শুরুতে, মেঘনা নদীর সম্প্রসারণের কারণে জেলা সদর থেকে দক্ষিণ শাহজাদপুরের সাথে সংযোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এরপর সরকার দক্ষিণ শাহবাজপুর ও হাতিয়াকে নোয়াখালী জেলার অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। ভোলা ১৮৬৯ সাল পর্যন্ত নোয়াখালীর অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৮৬৯ সালে, এটি একটি মহকুমা হিসেবে বরিশাল জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৮৭৬ সালে প্রশাসনিক সদর দফতর দৌলতখান থেকে ভোলায় স্থানান্তরিত করা হয়। ১৯৮৪ সালে, এটি একটি জেলা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
ভোলা জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান:-
ভোলা জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করুন
📚 ভোলা জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ
ভোলা জেলার শিক্ষা ব্যবস্থা বিভিন্ন স্তরে বিস্তৃত, যার মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নিচে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রদান করা হলো:
🏫 প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
ভোলা জেলায় সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এই বিদ্যালয়গুলো শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
🏫 মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়
জেলায় বহু মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যেগুলো শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রদান করে। উল্লেখযোগ্য কিছু বিদ্যালয়ের নাম নিচে উল্লেখ করা হলো:
- ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
- চরফ্যাশন টি. বারেৎ মাধ্যমিক বিদ্যালয়
- লালমোহন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
🎓 কলেজসমূহ
ভোলা জেলায় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কলেজ রয়েছে, যেগুলো উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা প্রদান করে। উল্লেখযোগ্য কিছু কলেজের নাম:
- ভোলা সরকারি কলেজ
- চরফ্যাশন সরকারি কলেজ
- দৌলতখান আবু আব্দুল্লাহ সরকারি ডিগ্রি কলেজ
🕌 মাদ্রাসা শিক্ষা
জেলায় বিভিন্ন পর্যায়ের মাদ্রাসা রয়েছে, যেগুলো ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করে। উল্লেখযোগ্য কিছু মাদ্রাসার নাম:
- রতনপুর দাখিল মাদ্রাসা
- হাজারীগঞ্জ মোহাম্মদিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা
- দক্ষিণ জামিরালতা ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা
🛠️ কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা
ভোলা জেলায় কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে, যেগুলো শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কারিগরি দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে। উল্লেখযোগ্য কিছু প্রতিষ্ঠান:
- ভোলা টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট
- পশ্চিম চর উমেদ মডেল টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ

ভোলা জেলার শিক্ষা ব্যবস্থা ধারাবাহিক উন্নতির পথে রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, এমপিওভুক্তকরণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের মাধ্যমে এই জেলা শিক্ষা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভোলা জেলা বাংলাদেশের শিক্ষা মানচিত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করবে।
১ thought on “ভোলা জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান”