ভোলা জেলার মানচিত্র

“The Queen Island of Bangladesh” — ভোলা জেলা বাংলাদেশের একমাত্র ও সর্ববৃহৎ দ্বীপ জেলা।

📍 ভৌগোলিক অবস্থান সীমানা

ভোলা জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত। এটি মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের মিলনস্থলে গঠিত একটি দ্বীপ যা চারদিক দিয়ে নদী ও সাগরে বেষ্টিত। জেলার ভৌগোলিক অবস্থান এভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়:

দিক সীমান্তবর্তী এলাকা / জলাশয়
উত্তর বরিশাল জেলা ও মেঘনা নদী
দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর
পূর্ব নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলা, মেঘনা নদী
পশ্চিম বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা, তেঁতুলিয়া নদী

🔸 মোট আয়তন: ৩,৪০৩.৪৮ বর্গকিলোমিটার
🔸 প্রশাসনিক এলাকা: ৭টি উপজেলা, ৯টি পৌরসভা, ৭টি থানা, ৫৯টি ইউনিয়ন
🔸 প্রধান নদনদী: মেঘনা, তেঁতুলিয়া, ইলিশা, বোরহানউদ্দিন, মদনপুরা

 

🗺️ ভোলা জেলার মানচিত্র

ভোলা জেলার মানচিত্রে প্রধান নদী, উপজেলাসমূহ, সংযোগ সড়ক ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র চিহ্নিত থাকে। নিচের চিত্রে একটি সংক্ষিপ্ত রূপ দেওয়া হলো:

গুগল ম্যাপে ভোলা জেলার মানচিত্র দেখুন

 

ভোলা জেলার মানচিত্র

 

 

🏝️ ইতিহাসে দক্ষিণ শাহবাজপুর থেকে ভোলা

ভোলার ইতিহাস বহু পুরনো ও সমৃদ্ধ। এর পূর্ব নাম ছিল দক্ষিণ শাহবাজপুর। দ্বীপটির উদ্ভব ও বসবাস শুরু হয় ১৩শ শতকের দিকে।

🕰️ ঐতিহাসিক টাইমলাইন

বছর / সময়কাল ঘটনা
১২৩৫ খ্রিঃ দ্বীপটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয় (জে.সি. জ্যাক-এর তথ্যমতে)
১৩০০ খ্রিঃ কৃষিকাজ ও বসতি স্থাপন শুরু
১৫০০ খ্রিঃ পর্তুগিজ ও মগ জলদস্যুরা এখানে ঘাঁটি স্থাপন করে
১৮২২ খ্রিঃ দক্ষিণ শাহবাজপুর বাকেরগঞ্জ জেলার অংশ ছিল
১৮৬৯ খ্রিঃ ভোলা বরিশাল জেলার অধীনে মহকুমা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়
১৮৭৬ খ্রিঃ দৌলতখান থেকে ভোলা শহরে প্রশাসনিক সদর দপ্তর স্থানান্তর
১৯৮৪ খ্রিঃ ভোলা জেলা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে

 

🏛️ প্রশাসনিক কাঠামো

উপজেলা পৌরসভা ইউনিয়ন পরিষদ
ভোলা সদর ভোলা ১৩টি ইউনিয়ন
দৌলতখান দৌলতখান ৯টি ইউনিয়ন
বোরহানউদ্দিন বোরহানউদ্দিন ৯টি ইউনিয়ন
তজুমদ্দিন তজুমদ্দিন ৩টি ইউনিয়ন
লালমোহন লালমোহন ৯টি ইউনিয়ন
মনপুরা মনপুরা ৪টি ইউনিয়ন
চরফ্যাশন চরফ্যাশন ১২টি ইউনিয়ন

 

🌊 ভোলার বিশেষ বৈশিষ্ট্য

  1. বাংলাদেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা।
  2. সমুদ্র নদীবেষ্টিত অঞ্চলে ভুমিকম্পের ঝুঁকি কম।
  3. কৃষি, মৎস্য, খনিজ গ্যাসে সমৃদ্ধ।
  4. দুর্যোগপ্রবণ হলেও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অগ্রগামী।
  5. বাংলাদেশের কুইন আইল্যান্ডহিসেবে পরিচিত।

 

🐟 অর্থনীতি প্রাকৃতিক সম্পদ

ভোলার অর্থনীতি মূলত কৃষি, মাছ ধরার শিল্প, এবং সাম্প্রতিককালে গ্যাস অনুসন্ধানের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ভোলা গ্যাস ফিল্ড এবং শাহবাজপুর গ্যাস ফিল্ড এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

 

🌐 ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা পর্যটন

ভোলার পর্যটন সম্ভাবনা বিশাল, বিশেষতঃ চর কুকরি-মুকরি, মনপুরা দ্বীপ, চরফ্যাশন লাইট হাউস ইত্যাদি আকর্ষণীয় স্থান।

যদি সঠিক পরিকল্পনা ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা যায়, তবে ভোলা হতে পারে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ সমুদ্রভিত্তিক পর্যটন জেলা।

 

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

ভোলা জেলা শুধু একটি ভৌগোলিক দ্বীপ নয়, এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি, কৃষি ও সামুদ্রিক ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক। মানচিত্রভিত্তিক বিশ্লেষণে বোঝা যায় যে, ভোলা তার স্বকীয় ভূপ্রকৃতি ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে বাংলাদেশের এক অনন্য প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক সত্তা। ভবিষ্যতে ভোলার উন্নয়ন নির্ভর করবে সঠিক পরিকল্পনা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতার উপর।

১ thought on “ভোলা জেলার মানচিত্র”

Leave a Comment