ভোলা জেলার পটভূমি

ভোলা জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। এটি দেশের সবচেয়ে বড় গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ। মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের মিলনে গঠিত এই দ্বীপভূমি তার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, এবং ইতিহাসগত গুরুত্বের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।

ভোলা জেলার পটভূমি

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

 

🗺️ ভোলার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

বিষয়ের নাম বিবরণ
জেলা প্রতিষ্ঠার বছর ১৯৮৪
পূর্বের অবস্থা নোয়াখালী জেলার অন্তর্গত সাব-ডিভিশন
সাব-ডিভিশন স্বীকৃতি ১৮৪৫ (নোয়াখালীর অধীনে)
বরিশালের অধীনে স্থানান্তর ১৮৬৯ সালে
প্রশাসনিক স্থানান্তর ১৮৭৬ সালে দৌলতখান থেকে বর্তমান ভোলায়
উপজেলার সংখ্যা ৭টি
ইউনিয়নের সংখ্যা ৭০টি

 

🏛️ প্রশাসনিক ইতিহাসের ধারা

ভোলা প্রথমে ১৮৪৫ সালে নোয়াখালী জেলার সাব-ডিভিশন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। সে সময় এর প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল বর্তমান দৌলতখান। ১৮৬৯ সালে একে বরিশাল জেলার অধীনে আনা হয় এবং ১৮৭৬ সালে প্রশাসনিক কার্যালয় দৌলতখান থেকে ভোলা শহরে স্থানান্তর করা হয়।

🗃️ সময়ানুক্রমিক ধারাবাহিকতা:
সাল ঘটনা
১৮৪৫ নোয়াখালীর অধীনে সাব-ডিভিশন হিসেবে স্বীকৃতি
১৮৬৯ বরিশাল জেলার অধীনে সংযুক্তিকরণ
১৮৭৬ প্রশাসনিক সদর দৌলতখান থেকে ভোলায় স্থানান্তর
১৯৮৪ পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ

 

📍উপজেলা ও ইউনিয়নের সংখ্যা

বর্তমানে ভোলা জেলা সাতটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই উপজেলাগুলোর অধীনে মোট ৭০টি ইউনিয়ন রয়েছে।

📌 ভোলার ৭টি উপজেলা:

  1. ভোলা সদর
  2. দৌলতখান
  3. বোরহানউদ্দিন
  4. লালমোহন
  5. তজুমদ্দিন
  6. চরফ্যাশন
  7. মনপুরা

 

📚 নামকরণের কাহিনী

ভোলার নামকরণের পিছনে একটি জনপ্রিয় লোককাহিনী রয়েছে। বর্তমানে যেটি একটি খাল, পূর্বে তা ছিল একটি বিস্তৃত নদী — বেতুয়া নদী। এই নদী পারাপারের জন্য ব্যবহৃত হত খেয়া নৌকা। নৌকা চালাতেন এক বৃদ্ধ মাঝি যার নাম ছিল ভোলা গাজি পাটনি। তিনি ছিলেন সৎ ও পরিশ্রমী। তার নামেই এই স্থানের নাম হয় “ভোলা”।

📜 ভোলা গাজি পাটনি ছিলেন স্থানীয়ভাবে সম্মানিত একজন মাঝি। তাঁর নৌকার ঘাট ছিল আজকের যোগীর ঘোল এলাকায়। তাঁর অবদানের স্মরণে এই এলাকা তাঁর নামানুসারে পরিচিতি লাভ করে।

 

🌊 ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য

ভোলা জেলার প্রাকৃতিক গঠন একটি ব-দ্বীপ (deltaic island)। এটি গাঙ্গেয় নদ-নদীর পলিতে গঠিত এবং এর ভূভাগ প্রায় সমতল। প্রধান নদীগুলি হল মেঘনা ও তেঁতুলিয়া। ভোলা বঙ্গোপসাগরের খুব কাছাকাছি হওয়ায় জলবায়ুতে উপকূলীয় বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।

🌐 ভৌগোলিক উপাত্ত:
বিষয় বিবরণ
আয়তন প্রায় ৩,৪০৪.১৯ বর্গকিলোমিটার
প্রধান নদী মেঘনা, তেঁতুলিয়া
সীমান্ত উত্তরে বরিশাল, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে নোয়াখালী, পশ্চিমে বরিশাল ও পটুয়াখালী

 

🛶 অর্থনীতি ও জীবনযাত্রা

ভোলার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর হলেও মৎস্য আহরণ এবং নদীকেন্দ্রিক বাণিজ্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে ভোলার গ্যাস ক্ষেত্র জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে শুরু করেছে।

ভোলা জেলা শুধু বাংলাদেশের একটি বৃহৎ দ্বীপই নয়, বরং এটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মানবিক সংস্কৃতির মিলনস্থল এর প্রশাসনিক বিকাশ, নামকরণের ইতিহাস, ভৌগোলিক অবস্থান দেশের ইতিহাসে একটি আলাদা অবস্থান তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে ভোলার প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষ করে গ্যাস মৎস্য সম্পদ, জাতীয় অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

১ thought on “ভোলা জেলার পটভূমি”

Leave a Comment