ভোলা জেলার গণমাধ্যম

ভোলা জেলার পূর্ব নাম ছিল দক্ষিণ শাহবাজপুর। ইতিহাসবিদ জে.সি. জ্যাক তাঁর “বাকেরগঞ্জ গেজেটিয়ার”-এ উল্লেখ করেছেন, এই দ্বীপটি প্রথম তৈরি হওয়া শুরু হয় ১২৩৫ সালে এবং চাষাবাদ শুরু হয় ১৩০০ সাল থেকে

১৫০০ সালে পর্তুগিজ এবং মগ জলদস্যুরা এখানে ঘাঁটি স্থাপন করে। দক্ষিণ শাহবাজপুরে আরাকান ও মগ জলদস্যুরাও সক্রিয় ছিল।

প্রশাসনিকভাবে শাহবাজপুর ১৮২২ সাল পর্যন্ত বাকেরগঞ্জ জেলার অন্তর্গত ছিল। এরপর নোয়াখালী জেলার অন্তর্ভুক্ত হয় এবং ১৮৬৯ সালে বরিশাল জেলার মহকুমা হিসেবে পরিচিতি পায়। ১৯৮৪ সালে ভোলা পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

এই দীর্ঘ ইতিহাস ও বিচ্ছিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠেছে ভোলার নিজস্ব গণমাধ্যম ব্যবস্থা, যা ধীরে ধীরে আধুনিক রূপ পেয়েছে।

ভোলা জেলার গণমাধ্যম

 

ভোলার গণমাধ্যম: একটি চিত্র

ভোলা জেলার গণমাধ্যম অনেকটা স্থানীয় তথ্যপ্রবাহ ও জনমত গঠনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। বর্তমান সময়ে ভোলার বেশ কিছু অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়া সক্রিয় রয়েছে। এসব মাধ্যমের মাধ্যমে স্থানীয় সংবাদ, রাজনৈতিক তৎপরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড প্রচার পায়।

 

ভোলা জেলার কিছু উল্লেখযোগ্য সংবাদমাধ্যম

ক্রমিক সংবাদমাধ্যমের নাম সম্পাদক ঠিকানা/লোকেশন ফোন নম্বর ওয়েবসাইট
ভোলার সংবাদ ফরহাদ হোসেন সদর রোড, ভোলা +8801710093225 bholarsangbad.com
আমাদের ভোলা ইয়াছিনুল ইমন [তথ্য অপ্রাপ্ত] [তথ্য অপ্রাপ্ত] amaderbhola.com
দৈনিক ভোলার বাণী মোঃ মাকসুদুর রহমান [তথ্য অপ্রাপ্ত] [তথ্য অপ্রাপ্ত] [তথ্য অপ্রাপ্ত]
দৈনিক বাংলার কণ্ঠ হাবিবুর রহমান [তথ্য অপ্রাপ্ত] [তথ্য অপ্রাপ্ত] [তথ্য অপ্রাপ্ত]
দৈনিক আজকের ভোলা শাওকাত হোসেন [তথ্য অপ্রাপ্ত] [তথ্য অপ্রাপ্ত] [তথ্য অপ্রাপ্ত]
ভোলা জিলাইভ 24 সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর [তথ্য অপ্রাপ্ত] [তথ্য অপ্রাপ্ত] [তথ্য অপ্রাপ্ত]

 

গণমাধ্যমের ভূমিকা চ্যালেঞ্জ

ভূমিকা:

  • স্থানীয় খবর প্রচার: ভোলার গ্রামাঞ্চলের খবরকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে এই মিডিয়াগুলোর অবদান অনস্বীকার্য।
  • প্রাকৃতিক দুর্যোগ নদীভাঙনের খবর: ভোলা একটি দুর্যোগপ্রবণ জেলা। এইসব মিডিয়া তাৎক্ষণিকভাবে দুর্যোগ ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানাতে সহায়ক।
  • সামাজিক সচেতনতা: করোনা, পোলিও টিকা, নারীর অধিকার, দুর্নীতিবিরোধী প্রচারণা ইত্যাদিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

চ্যালেঞ্জসমূহ:

  • অর্থনৈতিক সংকট: বিজ্ঞাপন সংকট ও আর্থিক অনুদানের অভাবে অনেক পত্রিকা টিকে থাকতে পারে না।
  • পেশাগত দক্ষতার অভাব: অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের ঘাটতি থাকে।
  • রাজনৈতিক চাপ: স্থানীয় রাজনীতির কারণে অনেক সময় স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশে বাধা আসে।

 

ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা

ভোলার গণমাধ্যমকে আরও কার্যকর ও বিশ্বস্ত করতে হলে নিচের পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা যেতে পারে:

  • 🎓 স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ প্রদান
  • 💻 ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আরও বিস্তার
  • 📡 দূরবর্তী অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগ বৃদ্ধি
  • 🤝 স্থানীয় জাতীয় মিডিয়া সংযোগ স্থাপন
  • 💰 সরকারি বেসরকারি অর্থায়ন সহায়তা

 

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

 

ভোলা জেলার গণমাধ্যম একটি স্বতন্ত্র পরিচয় নিয়ে সামনে এগিয়ে চলেছে। জেলার ইতিহাস যেমন ঐতিহ্যবাহী, তেমনি গণমাধ্যমও স্থানীয় জনতার কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে। প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে এই মিডিয়া আরও জনবান্ধব হয়ে উঠবে—এটাই প্রত্যাশা।

১ thought on “ভোলা জেলার গণমাধ্যম”

Leave a Comment