ভোলা জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত একটি নদীবেষ্টিত দ্বীপ জেলা। এই জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ বৈচিত্র্যময় ও নির্ভরযোগ্য, বিশেষ করে নদীপথে যাতায়াত ব্যবস্থা বেশ জনপ্রিয়। সড়ক ও নৌপথ মিলিয়ে ভোলা জেলার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে।

📍 ঢাকা থেকে ভোলা জেলার দূরত্ব ও যাতায়াত মাধ্যম
| যোগাযোগ মাধ্যম | দূরত্ব | সময় | উল্লেখযোগ্য রুট |
| নদীপথে | ১৯৫ কিমি | ৮-৯ ঘণ্টা | সদরঘাট → ভোলা খেয়াঘাট |
| সড়কপথে (বরিশাল হয়ে) | ২৪৭ কিমি | ৭-৮ ঘণ্টা | ঢাকা → বরিশাল → ভোলা |
| সড়কপথে (লক্ষীপুর হয়ে) | ২৪০ কিমি | ৬-৭ ঘণ্টা | ঢাকা → লক্ষীপুর → ভোলা |
🛳️ নদীপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা (লঞ্চ সার্ভিস)
ভোলা থেকে ঢাকায় এবং ঢাকা থেকে ভোলায় নিয়মিতভাবে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করে। এসব লঞ্চে বিভিন্ন শ্রেণীতে ভাড়া নির্ধারণ করা রয়েছে এবং যাত্রা সময় প্রায় একইরকম।
🔁 ভোলা → ঢাকা লঞ্চ সার্ভিস
| লঞ্চের নাম | বুকিং নম্বর | যাত্রা স্থান | ছাড়ার সময় | পৌঁছার সময় | ১ম শ্রেণী ভাড়া | ৩য় শ্রেণী ভাড়া |
| এমভি ভোলা | ০৪৯১-৬১২৩৬ | ভোলা খেয়াঘাট | রাত ৭:০০ | সকাল ৬:০০ | ৳৯০০ | ৳২০২ |
| সম্পদ | ০৪৯১-৬১২৩৬ | ভোলা খেয়াঘাট | রাত ৭:৩০ | সকাল ৬:০০ | ৳৯০০ | ৳২০২ |
| শ্রীনগর | ০৪৯১-৬২৫২৩ | ভোলা খেয়াঘাট | রাত ৭:৩০ | সকাল ৬:০০ | ৳৯০০ | ৳২০২ |
| কর্ণফুলী | ০৪৯১-৫১৩৫৪ | ভোলা খেয়াঘাট | রাত ৭:৩০ | সকাল ৬:০০ | ৳৯০০ | ৳২০২ |
| বালীয়া | ০১৭১১৯০৫৪৭১ | ভোলা খেয়াঘাট | রাত ৭:০০ | সকাল ৬:০০ | ৳৯০০ | ৳২০২ |
| লালী | ০১৭১১৯০৫৪৭১ | ভোলা খেয়াঘাট | রাত ৭:৩০ | সকাল ৬:০০ | ৳৯০০ | ৳২০২ |
🔁 ঢাকা → ভোলা লঞ্চ সার্ভিস
| লঞ্চের নাম | বুকিং নম্বর | যাত্রা স্থান | ছাড়ার সময় | পৌঁছার সময় | ১ম শ্রেণী ভাড়া | ৩য় শ্রেণী ভাড়া |
| এমভি ভোলা | ০৪৯১-৬১২৩৬ | ঢাকা সদরঘাট | রাত ৭:৩০ | সকাল ৬:০০ | ৳৯০০ | ৳২০২ |
| সম্পদ | ০৪৯১-৬১২৩৬ | ঢাকা সদরঘাট | রাত ৮:০০ | সকাল ৬:০০ | ৳৯০০ | ৳২০২ |
| শ্রীনগর | ০৪৯১-৬২৫২৩ | ঢাকা সদরঘাট | রাত ৭:৩০ | সকাল ৬:০০ | ৳৯০০ | ৳২০২ |
| কর্ণফুলী | ০৪৯১-৫১৩৫৪ | ঢাকা সদরঘাট | রাত ৮:০০ | সকাল ৬:০০ | ৳৯০০ | ৳২০২ |
| বালীয়া | ০১৭১১৯০৫৪৭১ | ঢাকা সদরঘাট | রাত ৭:৩০ | সকাল ৬:০০ | ৳৯০০ | ৳২০২ |
| লালী | ০১৭১১৯০৫৪৭১ | ঢাকা সদরঘাট | রাত ৮:০০ | সকাল ৬:০০ | ৳৯০০ | ৳২০২ |
🚌 সড়কপথে যোগাযোগ
🔸 ঢাকা → ভোলা
- বরিশাল হয়ে বাস: সময় লাগে ৭-৮ ঘণ্টা
- লক্ষীপুর হয়ে বাস: সময় লাগে ৬-৭ ঘণ্টা
- বাস কোম্পানি অনুযায়ী ভাড়ার পার্থক্য রয়েছে।
🔸 চট্টগ্রাম → ভোলা
- লক্ষীপুর হয়ে সড়ক ও সী-ট্রাকযোগে যাত্রা: সময় লাগে ৬-৭ ঘণ্টা।
🛥️ বরিশাল ও ভোলার মধ্যে যাতায়াত ব্যবস্থা
| মাধ্যম | সময় |
| লঞ্চ | ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট |
| স্পিড বোট | ৪৫ মিনিট |
🧭 ভোলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা
ভোলা জেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ অত্যন্ত উন্নত। জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে ছয়টি উপজেলায় সড়কপথে (বাস/জীপ) যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। মনপুরা উপজেলায় যেতে হয় সী-ট্রাকযোগে।
🔸 উপজেলাগুলোর অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ সারাংশ:
| উপজেলা | যাতায়াত মাধ্যম |
| ভোলা সদর | বাস / জীপ |
| দৌলতখান | বাস / জীপ |
| বোরহানউদ্দিন | বাস / জীপ |
| তজুমদ্দিন | বাস / জীপ |
| লালমোহন | বাস / জীপ |
| চরফ্যাশন | বাস / জীপ |
| মনপুরা | সী-ট্রাক |
ভোলা জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা নদীপথে এবং সড়কপথে উভয় দিক থেকেই সমৃদ্ধ। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশালসহ দেশের প্রধান প্রধান শহরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। নৌপথের দিক দিয়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যাত্রী চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। অভ্যন্তরীণভাবে জেলার প্রায় সকল উপজেলায় সহজে যাতায়াত করা সম্ভব, যা উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রমাণ।
২ thoughts on “ভোলা জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা”