ভোলা জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত একটি উপকূলীয় জেলা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও জীববৈচিত্র্যে ভরপুর এই জেলা কেবল ভৌগোলিক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, এখানকার মানুষদের কর্মপ্রবণতা, দেশপ্রেম ও সাংস্কৃতিক অবদানের জন্যও প্রসিদ্ধ। এই জেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন বহু খ্যাতিমান ব্যক্তি, যাঁরা নিজেদের কর্মগুণে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সম্মান কুড়িয়েছেন। নিচে ভোলার কিছু উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বকে শ্রেণিবিন্যাস করে উপস্থাপন করা হলো:

🏅 বীর ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ব্যক্তিত্ব
| নাম | তথ্য |
| বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল | জন্ম: ১৬ ডিসেম্বর ১৯৪৭, বর্তমান ঠিকানা: আলীনগর, ভোলা সদর। ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় কুমিল্লা জেলার গঙ্গাসাগরে ১৮ এপ্রিল ১৯৭১ সালে বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করে শহীদ হন। মৃত্যুর পর বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত। তাঁর আত্মত্যাগ বাঙালি জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। |
🎭 সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব
| নাম | পরিচয় ও অবদান |
| কবি মোজাম্মেল হক | ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি একজন সমাজসংস্কারক, শিক্ষানুরাগী এবং “জাতীয় মঙ্গলের কবি” নামে পরিচিত। তাঁর নামানুসারে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ভোলার প্রধান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র “মোজাম্মেল হক টাউন হল“। |
| মোশারেফ হোসেন শাজাহান | জন্ম: ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯, দক্ষিণ চরনোয়াবাদ, বাপ্তা ইউনিয়ন। তিনি একজন লেখক, নাট্যকার ও রাজনীতিবিদ। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: চর কলমীর সুখ দুঃখ, স্মৃতির ধুলায় পথিক, স্বপ্নের দ্বীপ। তিনি “মেষনা শিল্পী সংসদ” নামে নাট্যসংগঠন গঠন করেন। |
| কবি নাসির আহমেদ | জন্ম: ৫ ডিসেম্বর ১৯৫২, আলীনগর, ভোলা সদর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাশ করে কবিতা রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। ত্রয়ী পদক (১৯৮৭), কবি মোজাম্মেল হক পদক (১৯৯১) প্রাপ্ত। এছাড়া বিটিভি ও রেডিওতে প্রথম শ্রেণির গীতিকার। বর্তমানে পত্রিকা ‘সমকাল’-এর ফিচার সম্পাদক। |
| অধ্যক্ষ ফারুকুর রহমান | জন্ম: ২০ এপ্রিল ১৯৪৯, ভোলা সদর। দীর্ঘকাল বিভিন্ন কলেজে অধ্যক্ষ ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন একজন নাট্যশিল্পী ও আবৃত্তিকার। |
| এ কে মকবুল আহমেদ | জন্ম: ১৩৩৮ বঙ্গাব্দ, ভেলুমিয়া, ভোলা সদর। সাহিত্য ও নাট্যজগতের খ্যাতিমান ব্যক্তি। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: গাঁয়ের মেয়ে, আকাশ–মাটি, নজরুল, নষ্ট যুবরাজ প্রভৃতি। |
| মোঃ হোসেন চৌধুরী | জন্ম: ২৩ অক্টোবর ১৯৪০, গজারিয়া, লালমোহন। রচয়িতা: ভোলা জেলার ইতিহাস, জিয়ারতে কাবা শরীফ, নৈতিকতার করিডোর ইত্যাদি। |
🏛️ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব
| নাম | পরিচয় ও অবদান |
| তোফায়েল আহমেদ | জন্ম: ২২ অক্টোবর ১৯৪৩, কোড়ালিয়া, দক্ষিণ দিঘলদী, ভোলা। তিনি ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা একজন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ। একাধিকবার মন্ত্রী ছিলেন এবং বর্তমানে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য। |
| মোশারেফ হোসেন শাহজাহান | রাজনীতিবিদ ও সাবেক পানি সম্পদ ও ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া সাহিত্যিক ও নাট্যকার হিসেবেও খ্যাত। |
| নাজিউর রহমান মঞ্জু | সাবেক মন্ত্রী ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র। তিনি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। দৌলতখান, ভোলার বাসিন্দা। |
| ডাঃ আজাহার উদ্দিন আহমদ | জন্ম: ১৩ অক্টোবর ১৯১৩। ষাট ও সত্তরের দশকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। প্রবল বাঙালি জাতীয়তাবাদী কণ্ঠস্বর ছিলেন। |
| মেজর (অব🙂 হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) | জন্ম: ২৯ অক্টোবর, ভোলা জেলার লালমোহন। মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ। একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। |
📊 চিত্র: সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অবদান বিশ্লেষণ
| শ্রেণি | মোট ব্যক্তি | মূল অবদান |
| বীর মুক্তিযোদ্ধা | ১ জন | স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ ও বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব |
| সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব | ৬ জন | কবিতা, নাটক, গান, গল্প ও শিল্পসাহিত্য |
| রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব | ৫ জন | মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক |
ভোলা জেলার ইতিহাস কেবল মেঘনা, তেঁতুলিয়া ও উপকূলীয় নদীর বয়ে চলা ধারায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং এই জেলাটি বহু দেশপ্রেমিক, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ, ও সংস্কৃতি কর্মীর অবদানে সমৃদ্ধ। বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল থেকে শুরু করে কবি নাসির আহমেদ, মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ কিংবা নাট্যকার মকবুল আহমেদের মতো অসংখ্য গুণীজন জন্ম নিয়ে এ জেলা আমাদের গৌরবের অংশ করে তুলেছেন।

ভোলা জেলার তরুণ প্রজন্ম যদি এই গুণীজনদের জীবন থেকে প্রেরণা গ্রহণ করে, তবে একদিন এই জেলার আরও অনেক সন্তান জাতিকে আলোকিত করবে।
১ thought on “ভোলা জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি”